পাহাড়ি জনপদে বিশুদ্ধ পানির হাহাকার

দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি ও শুষ্ক মৌসুমের কারণে পানির সংকট দেখা দিয়েছে পুরো পাহাড়ে। একসময় সবুজঘেরা বনাঞ্চল পার্বত্য জেলায় এ সংকট ছিল না। কিন্তু কয়েক বছর ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। দিন দিন তা আরও তীব্র হচ্ছে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় ও ভূগর্ভের পানির স্তর নিচে নামার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি। নিরাপদ ও নিত্যব্যবহার্য পানি মিলছে না। তাছাড়া সেসব দূষিত পানি আছে তা পান করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ওইসব এলাকার বাসিন্দা। দূর-দূরান্ত থেকে কষ্ট করে পানি সংগ্রহ করে এখানকার মানুষ। এতে তাদের দুর্গতি বেড়েছে।
বান্দরবান : পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে বসবাসকারীদের পানির প্রধান উৎস নদী ও ঝিরি-ঝরনা। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে সেসব শুকিয়ে যাওয়া যায়। একসময় বান্দরবানে পানির সংকট ছিল না। অধিক হারে পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বনাঞ্চল উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি-এপ্রিলে এই সংকট আরও তীব্র হয়।
বান্দরবান সদর উপজেলার জামছড়ি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত থাংক্রী পাড়া। যেখানে প্রায় ৩০টি পরিবারসহ আরও চারটি পাড়ার প্রায় ৩০০টি পরিবারের দেড় হাজার মানুষের বাস। তিনশ বছরের পুরোনো থাংক্রী পাড়া গ্রামটি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পানি সংকটে ভুগছে। গ্রামের পাশে থাকা থাংক্রী ঝিরি নামক ছোট্ট একটি মরা ঝিরির পাথরের গর্ত থেকে চুইয়ে পড়া পানিই এখানকার মানুষের একমাত্র ভরসা। শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে গেলে সেখানে চরম সংকট দেখা দেয়।
সরেজমিন থাংক্রী পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের গৃহিণী শৈনুচিং মারমা প্রতিদিনের মতো পানির জন্য প্রায় ৫০০ ফুট উঁচু-পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেয়ে পানি সংগ্রহ করছেন। তিনি বলেন, ‘সকালে পানি নিতে পারিনি, কারণ অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। তাই দুপুরে আসতে হলো। পানির জন্য প্রতিদিন এমন কষ্ট করতে হয়।’
এভাবে প্রতিদিন শত শত নারী পাহাড়ি পথ বেয়ে পানির সন্ধানে ছুটে চলেন।
থাংক্রী পাড়ার পাশাপাশি আরও চারটি গ্রামÑ উপর বুড়ি পাড়া, নিচে বুড়ি পাড়া ও সাক্রেডং পাড়া, রোয়াজা পাড়া তীব্র পানি সংকটে। এসব পাড়ায় ৩০০-এর বেশি পরিবারের প্রায় দেড় হাজার মানুষ বাস করে। এসব গ্রামে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় অস্বাস্থ্যকর, ঝিরি-ঝরনা ও দূষিত পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
জামছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যসিং শৈ মার্মা বলেন, শুধু থাংক্রী পাড়াবাসী পানি সংকটে নেই; পাশাপাশি আরও কয়েকটি গ্রাম সংকটে ভুগছে। এ গ্রামগুলোতে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।